আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
শনিবার, ঢাকা ॥ ৭ নভেম্বর ২০১৫ ॥ ২৩ কার্তিক ১৪২২ ॥ ২৪ মহরম ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ হল ৫০টি নাম      অ্যাপস বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী      আবার কেমেছে সোনার দাম      ‘প্রবাসে নারী কর্মীদের যৌন নির্যাতনের খবর সত্য নয়’      ‘সংলাপের আহ্বান বিএনপির দুর্বলতা নয়’      বগুড়ায় আনসারুল্লাহ বাংলার দুই জেলা কমাণ্ডার গ্রেপ্তার      দেশের মঙ্গা দূরীকরণে প্রধান ভুমিকা রেখেছে বিনা      
বাংলাদেশ-ফ্রান্সের ১৯তম যৌথ খনন
বৈরাগীর ভিটায় চলছে প্রতœতাত্ত্বিক খনন
Published : Sunday, 8 November, 2015 at 12:00 AM
প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া
প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গনগরী মহাস্থান গড়ে বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ খননকাজ আবারও শুরু হয়েছে। মহাস্থান জাদুঘরের দণি অংশে বৈরাগীর ভিটায় গত ২৪ অক্টোম্বর থেকে এ খনন কাজ শুরু করা হয়, যা চলবে চলতি নভেম্বরজুড়েই। মাসব্যাপী এবারের খননকাজে অনেক প্রতœসামগ্রী মিলতে পারে বলে আশা করছেন প্রতœবিদরা।
মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খনন করা হয়েছে। খননের বিভিন্ন পর্যায়ে এখানে বেরিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতœনিদর্শন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকার যৌথভাবে খননকাজ পরিচালনা করে আসছে। মাঝে দুই বছর বন্ধ থাকলেও আবার তা শুরু হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ১৮ দফায় এখানে খননকাজ চালানো হয়।
মহাস্থান দুর্গনগরীর মাঝামাঝি এলাকা লইয়েরকুড়ি বা ফ্রান্স মাঠ নামে পরিচিত ভিটায় উত্তর-পশ্চিম কোণে বৈরাগীর ভিটা, দণি অংশে চলছে খননকাজ। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দুপুরে ২টা পর্যন্ত চলছে খননকাজ। দুই বিদেশি হত্যার পর এবার খননকাজ চলাকালে ফ্রান্সের প্রতœতত্ত্ববিদদের কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। আবাসস্থল জাদুঘর সংলগ্ন রেস্ট হাউস ও খনন এলাকায় বিপুল সংখ্যক আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এবারের খননকাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফ্রান্স ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের সদস্য ও প্রতœতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ড. জঁ ফ্রাসোয়া সালস্। খননকাজ তত্ত্বাবধান করছেন ফ্রান্সের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক ভিনসেন্ট রিসিবরিসহ সাতজন।
বাংলাদেশ দলের পে খননকাজে অংশ নিচ্ছেন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা, মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মজিবুর রহমান, শাহজাদপুরের রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টোডিয়ান হালিমা আফরোজ, মহাস্থান জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান এসএম হাসানাত বিন ইসলাম, সিনিয়র ড্রাফটম্যান আফজাল হোসেন ও সার্ভেয়ার লোকমান হোসেন প্রমুখ। মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মজিবুর রহমান জানান, এ বছর খননকালে এখন পর্যন্ত মূল্যবান কোনো সম্পদ পাওয়া যায়নি। সেখানে মাটির নিচে প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে ইটের দেয়ালের অস্তিত্ব ল্য করা যাচ্ছে। এখনো কোনো কাঠামো না পাওয়া গেলেও পাওয়া গেছে পোড়া মাটির বল, মাটির বদনা, ভাঙা পাত্রের অংশবিশেষ আর দেয়ালবেষ্টিত কিছু স্থাপনার আদল বের হলেও সেগুলো নিয়ে এখন চলছে গবেষণা। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করছেন ফ্রান্সের প্রতœতত্ত্ববিদরা।
খনন সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার অর্থ বরাদ্দ কম থাকায় এবং সময় স্বল্পতার কারণে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে খননকাজ শেষ করা হবে। এবার খনন ও পরিচ্ছন্নতার কাজে সেখানে স্থানীয় ২৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ২০১৪ সালে ১৫ দিনের খননকালে ২১০০ বছর আগের তিনটি পাতকুয়া বা রিঙ ওয়েলের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার্য কিছু সামগ্রীও পাওয়া যায়।





সর্বশেষ সংবাদ
সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত