আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বুধবার, ঢাকা ॥ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৮ মাঘ ১৪২২ ॥ ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
৪২ মামলার রায় ও নথি জমা দিয়েছেন শামসুদ্দিন      যুক্তরাষ্ট্রের জেলে সন্ত্রাসী হিসেবে চতুর্থ বাংলাদেশি রাহাত      ব্রিটিশ সরকারের স্প্যান্ডিং কাটের বিরুদ্ধে ক্যামেরুনের মা      আগামীকাল আদালতে যাচ্ছেন না খালেদা      আরব আমিরাতে সুখ-শান্তি দেখতে বিশেষ মন্ত্রণালয়      নিউ হ্যাম্পশায়ারে ট্রাম্প ও স্যান্ডার্স জয়ী      শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক      
যুক্তরাষ্ট্রের জেলে সন্ত্রাসী হিসেবে চতুর্থ বাংলাদেশি রাহাত
অনলাইনে জিহাদি দমনের ভাবনায় ওবামা প্রশাসন
Published : Wednesday, 10 February, 2016 at 10:39 AM, Update: 10.02.2016 10:55:48 AM
নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের জেলে সন্ত্রাসী হিসেবে চতুর্থ বাংলাদেশি রাহাতসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন এফবিআই। এহেন পরিস্থিতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে। আর এ ভাবনাটি ত্বরান্বিত করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নাদিনোতে পাকিস্তানি দম্পতির নৃশংসতার ঘটনা। এর আগে ২০১৫ সালে ৬১ আমেরিকানকে গ্রেপ্তার করা হয় সন্ত্রাসে লিপ্ত হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণের সময়। অনলাইনে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে হামলার প্রাক্কালে এফবিআই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে বলে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ জরিপে উদঘাটিত হয়েছে। এরা সকলেই আইসিস গ্রুপের অনুগামী হয়ে সন্ত্রাসে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল।

গত জানুয়ারিতে ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্যালিফোর্নিয়ায় কর্মরত টেকনোলজি নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। অনলাইন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীরা আমেরিকানদের নিয়োগ করতে না পারে-সে ব্যাপারে কী করা দরকার, তা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। নৃশংসতা চালানোর আগেই ওদের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযান চালানো দরকার বলে তারা উল্লেখ করেন।

অস্টিনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ছাত্র বাংলাদেশি-আমেরিকান রাহাতুল খান রাহাত (২৪)এর জিহাদি হওয়া এবং মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের একই পথে ধাবিত করার ঘটনাবলী বিশেষভাবে পর্যালোচনা করছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী। কারণ, রাহাত জিহাদি হয়েছিলেন অনলাইনে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিনীদের চলমান অভিযানে রাহাত প্রচন্ডভাবে ক্ষেপে উঠেন এবং তার মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় মুসলিম-আমেরিকানদের নির্বিকার দেখে। রাহাত চাচ্ছিলেন সকল মুসলিম-আমেরিকান একযোগে মার্কিনীদের বিরুদ্ধে জিহাদে লিপ্ত হবে। হামলার জন্যে যথাযথ প্রশিক্ষণ নিতে রাহাত সিরিয়া এবং সোমালিয়ায় যাবার আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ রাহাতের অনলাইন চ্যাটিংয়ে যুক্ত হয়ে তার এমন সন্ত্রাসী মনোভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সক্ষম হন। যদিও, রাহাতের বাবা এবং মা কখনোই তা বিশ্বাস করতে চাননি। তারা বাবা মুনির খান অস্টিনে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক এবং মা কাজ করেন যুদ্ধ ফেরত মার্কিন সৈন্যদের মানসিক চিকিৎসক হিসেবে। তারা নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। মা-বাবার দাবি, রাহাত এ দেশের আলো-বাতাসে বড় হয়েছে, সে আমেরিকায় নিজের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করার জন্যে লেখাপড়া করছিল। তার মধ্যে কখনো তারা সন্ত্রাসী হওয়ার মত পরিস্থিতি দেখেননি। ‘যে ছেলে ঘাসের মধ্যে কোন পোকা দেখে আঁৎকে উঠে, সে কীভাবে নির্বিচারে মানুষ হত্যায় উদ্বুদ্ধ হবে’-দাবি রাহাতের বাবার।

যদিও এফবিআই কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগ স্বীকার করায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাহাতকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এফবিআইযের পরিচালক জেমস কমে সম্প্রতি উল্লেখ করেছেন যে, সন্ত্রাসী হিসেবে কাউকে গ্রেপ্তারের আগে নিশ্চিত হতে হবে তথ্য-উপাত্ত সম্পর্কে। ৫০ অঙ্গরাজ্যেই চলছে অনলাইন মনিটরিং-সম্ভাব্য জিহাদি অথবা সন্ত্রাসী চিহ্নিত করার জন্যে।

অপরদিকে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত অভিজ্ঞজনেরা বলেছেন, অনলাইনে চ্যাটিংয়ের পর সামমা-সামনি বৈঠকের ব্যাপারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে বৈঠকে যারা জিহাদে অংশগ্রহণে সর্বাত্মক আগ্রহ ব্যক্ত করে তাদের আর এক মুহূর্তও সময় দেওয়া উচিত নয়। রাহাতও তেমনি একজন, যিনি পরিচিত সকল বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীর ব্যাপারে বিরূপ ধারণা পোষণ করেছেন। তারা কেন তার সহযোগী হয়ে জিহাদের দীক্ষা নিচ্ছে না-এটি ছিল তার বড় আক্ষেপ। আর এসবই রাহাত আত্মস্থ করেছিলেন অনলাইন চ্যাটিংয়ে। অপর প্রান্তে যে এফবিআইয়ের অফিসার, সেটি রাহাত বুঝতে সক্ষম না হওয়ায় নিজের মধ্যে চেপে থাকা সবকিছু উল্লেখ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে লিপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা আরো ৩ বাংলাদেশিকে এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে মার্কিন আদালত। এরা হলেন নিউইয়র্কের আলবেনীর মোহাম্মদ এম হোসেন। নোয়াখালীর সন্তান এম হোসেন (৫১)ছিলেন মসজিদ আস সালামের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি মিশাইল ক্রয় করে জাতিসংঘে পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূতকে হত্যার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তাকে ২০০৮ সালের জুলাই মাসে ১৫ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে।

২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর আটলান্টাস্থ ফেডারেল কোর্ট ১৩ থেকে ১৭ বছরের জেল দিয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এহসানুল হক সাদেকী (২৩) কে। তিনি হোয়াইট হাউজ এবং ক্যাপিটল হিলে হামলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন।

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাজী মোহাম্মদ রিজওয়ানুল আহসান নাফিজকে ৩০ বছরের জেল দেওয়া হয়। স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে জিহাদি হয়ে নিউইয়র্ক সিটির ডাউন টাউনে ওয়াল স্ট্রিটে হামলার সময় হাতে-নাতে গ্রেপ্তার হয় ২২ বছর বয়েসী নাফিজ। তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন।

এদিকে, সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, ৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে সিনেট আর্মস সার্ভিস কমিটির শুনানিতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক লে. জেনারেল ভিনসেন্ট স্টুয়ার্ট বলেছেন, চলতি বছরই যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছে আইসিস। ইউরোপেও আরেকটি হামলার আশংকা রয়েছে। একই শুনানিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জেমস ক্যাপার উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীরা ৪০টিরও অধিক দেশে সক্রিয় রয়েছে। সে সব দেশ হচ্ছে সন্ত্রাসীদের জন্যে নিরাপদ আস্থানা, যা আগে ছিল না। ক্যাপার সকলকে সতর্ক করে দিয়ে আরো বলেছেন, আইসিস এবং তার ৮টি শাখা হচ্ছে এ সময়ে সবচেয়ে বড় হুমকি। সিরিয়া এবং ইরাকি রিফ্যুজিদের সাথে ওরা বিভিন্ন দেশে আশ্রয় গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ শুনানিতে আরো প্রকাশ করা হয় যে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ জনেরও অধিক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা সকলেই আইসিসের সমর্থক। ক্যাপার আরো উল্লেখ করেন, ৬৬০০ জনের মত পশ্চিমা বিশ্বসহ শতাধিক দেশের মোট ৩৬৫০০ বিদেশি সন্ত্রাসী আইসিসে যোগ দিয়েছে গত ৩ বছরে।




এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত