আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বৃহস্পতিবার, ঢাকা ॥ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৯ মাঘ ১৪২২ ॥ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা      শাহজালালে ব্যাক্তির শরীরে আড়াই কেজি স্বর্ণ      হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসায় বার্নিকাট      কৃষি সচিব হচ্ছেন আনোয়ার ফারুক       ‘মন্ত্রীরা বেতন নেয় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য’      নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী      কারিনার ‘ক্লিন ঢাকা’ কনসার্ট স্থগিত      
এনআইডি সংশোধনে চলছে চরম জালিয়াতি
Published : Thursday, 11 February, 2016 at 12:00 AM
আসাদুর রহমান
নতুন বেতন কাঠামোর পরে সরকারি চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর থেকেই এনআইডি সংশোধনের হিড়িক লেগেছে। আর এই সুযোগে চলছে চরম জালিয়াতি। অনেকে আগে জাতীয় পরিচয়পত্রে সঠিক তথ্য দিয়েছেন। পরে চাকরি নেওয়ার সময় বয়স গোপন কিংবা তথ্যে হেরফের করেছেন। এখন সংশোধন করতে গিয়ে সেগুলো ধরা পড়ছে। এরই মাঝে অনেকে নিজিকে সরকারি চাকরিজীবী পরিচয় দিয়ে সংশোধন করে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় তাদের ধরা যাচ্ছে না।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচলাক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহউদ্দীন আমাদের সময়কে বলেন, অনেকে বয়স এতটাই কমানোর চেষ্টা করেন যা চোখে লাগে। আবার এমন অনেকে আছের প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করতে পারেন না কিংবা ভুয়া সনদ সংযুক্ত করে দেন। সেগুলো যাচাই করেই আমরা সংশোধন করে দিই। তবে অসত্য তথ্য দিলে আমরা সংশোধন করে দিই না। এ বিষয়গুলো আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানাব। তারা তাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কি নেবেন না, সেটা তাদের ওপর নির্ভর করে।
লালা দাস। জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম সাল ২৪.০৭.১৯৫২। কিন্তু তিনি ১৯ বছর কমিয়ে এখন জন্ম সাল ০৭.০২.১৯৭১ করার আবেদন করেছেন। আবেদনের সঙ্গে সার্ভিস বুকের ফটোকপিও জমা দিয়েছেন। তবে তার বাহ্যিক চেহারা দেখে কেউই বলবে না বর্তমানে তার বয়স ৪৪ বছর। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তদন্তে পাঠানো হয়। সেখানে দেখা যায়, লালা দাসের প্রথম সন্তান কোকিলা রানীর জন্ম ১৯৭২ সালে। অথচ লালা দাসের দাবি, তার জন্ম ১৯৭১ সালে!
শাহনাজ আক্তার। এনআইডি করার সময় এই নারী নিজেকে এসএসসি পাস বলে উল্লেখ করেন। এখন নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদনের সঙ্গে এসএসসি সার্টিফিকেটের যে কপি জমা দিয়েছেন সেটি ভুয়া প্রমাণিত হয়। এরপর তিনি ফের নিজেকে অষ্টম শ্রেণি পাস দাবি করে সংশোধনের আবেদন করেন। তবে ভুয়া প্রমাণিত হওয়া এই দুই সরকারি চাকরিজীবীর পরিচয়পত্র সংশোধন করে দেয়নি এনআইনডি কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মুসা বলেন, আমাদের এখানে সংশোধনের আবেদন গ্রহণের নিয়ম না থাকলেও আমরা আবেদন নিচ্ছি। মানবিক বিবেচনায় সরকারি চাকুরেদের তথ্য সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করতে আমরা এখন শুক্র-শনিবারও কাজ করছি। এর মধ্যে কেউ জালিয়াতির চেষ্টা করলে, সঠিক তথ্য প্রমাণ হাজির করতে না পারলে, সেটা আমরা করছি না।
এনআইডি সংশোধনের দায়িত্বে থাকা আইডিয়া প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলেন, সার্ভিস বুক একটি সরকারি ডকুমেন্ট। কিন্তু এমন এমন কিছু আবেদন করা হয় যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বাধ্য হয়েই সেগুলো ফেরত দিতে হয়। এছাড়া নির্বাচন কমিশনাররা এমন কিছু কিছু সুপারিশ করেন, যেগুলোর সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট নেই। তারপরও করে দিতে হয়। আমরা তো এখানে পার্মানেন্ট নই। সুতরাং চাকরি বাঁচাতেই করে দিতে হয়। হয়তো ওনারাও জানেন না যে এটি সংশোধন যোগ্য নয়।
নজরুল ইসলাম নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবীর নাম সংশোধন করতে খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকা। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে সরকারি চাকরিজীবী দেখিয়ে ৫ দিনে সংশোধন করে দিয়েছে। কীভাবে সম্ভব হলো জানতে চাইলে বলেন, নিচে লোক আছে। সার্ভিস বুকের ফটোকপি কিংবা অফিস প্রত্যয়নপত্রসহ যা লাগবে সব ওরাই আপনাকে করে দেবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আগারগাঁও ইসলামকি ফাউন্ডেশন ভবনের সামনে টেবিল পেতে ফরম বাবদ ১০ থেকে ৩০ টাকা নিচ্ছে। পূরণ করে দিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। এর পরে সংশোধনের জণ্য প্রয়োজনীয় কাগজ না থাকলে সে জন্য চলে দর কষাকষি। যার থেকে যা নেওয়া যায়। পরে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগ সাজশের মাধ্যমে সংশোধন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীরা সংশোধন আবেদনের সঙ্গে সার্ভিস বুক কিংবা অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যে প্রত্যয়নপত্র জমা দিচ্ছেন সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাচাইয়ের সুযোগ নেই। এমনকি তিনি ওই অফিসে চাকরি করেন কিনা, সেটাও যাচাইয়ের সুযোগ নেই। এ জন্যই প্রায় দুমাস ধরে সংশোধন আবেদনের চাপ কমছে না বলে সন্দেহ পোষণ করছেন অনেকে।



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত