আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বৃহস্পতিবার, ঢাকা ॥ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৯ মাঘ ১৪২২ ॥ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা      শাহজালালে ব্যাক্তির শরীরে আড়াই কেজি স্বর্ণ      হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসায় বার্নিকাট      কৃষি সচিব হচ্ছেন আনোয়ার ফারুক       ‘মন্ত্রীরা বেতন নেয় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য’      নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী      কারিনার ‘ক্লিন ঢাকা’ কনসার্ট স্থগিত      
চাঁদপুরে জনতা ব্যাংকের ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ
Published : Thursday, 11 February, 2016 at 12:00 AM
এম এ লতিফ, চাঁদপুর
চাঁদপুরে জনতা ব্যাংক ষোলঘর কো-অপারেটিভ শাখায় সহস্রাধিক ব্যক্তিকে কৃষি ঋণ প্রদানের নামে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একজনের স্থলে অন্যজনের ছবি লাগিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে চাঁদপুরে ব্যাংকিং সেক্টরে তোলপাড় হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে জনতা ব্যাংক ষোলঘর কো-অপারেটিভ শাখার অধীনে চাঁদপুর শহরের গুণরাজদী, বিষ্ণুদী ও তরপুরচ-ী এলাকার সহস্রাধিক ব্যক্তিকে ব্যাংকের আন্তঃডেবিট ভাউচারের মাধ্যমে কৃষি ঋণ প্রদান করা হয়। প্রত্যেককে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হয়। পরে ঋণ আদায়ের জন্য ওই শাখায় বদলি হয়ে আসা নতুন কর্মকর্তারা ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তির খোঁজে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গেলে ভুয়া ঋণ প্রদানের বিষয়টি ধরা পড়ে।
জানা যায়, ঋণ প্রদানের সময় যেসব কাগজপত্র, বিশেষ করে জমির খতিয়ান, ভোটার আইডি, জন্ম নিবন্ধন, ছবি ইত্যাদি জমা দিতে হয়, তা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। জালিয়াতির মাধ্যমে এসব কাগজপত্র তৈরি করে এ ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভোটার আইডি ও কাগজপত্রে একজনের স্থলে অন্যের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। যাদের ছবি লাগিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে এ ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই দিনমজুর কিংবা খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। তাদের মধ্যে কয়েকজন হচ্ছেন আনোয়ার হোসেন (রিকশাচালক), অহিদ (হোটেল কর্মচারী), আবুল হোসেন শেখ (চায়ের দোকানদার), আব্দুল করিম (রিকশাচালক) ও মফিজ উদ্দিন (অব. সহকারী শিক্ষক)।
আনোয়ার হোসেনের ছবি লাগিয়ে সাহিন পেদা নামে ভুয়া ঋণ গ্রহীতার বিষয়ে ব্যাংকের ওই শাখায় যোগাযোগের কয়েক দিন পর শাখার সদ্য অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অলিউল্লা ওই অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা জমা দেন। যেখানে ঋণ গ্রহণকারীর কাগজপত্র সবই ভুয়া, সেখানে ওই কর্মকর্তা কেনই-বা ওই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করলেন? আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, গুণরাজদী মৌজায় ভোটার হচ্ছে ৮০০। অথচ ওই এলাকায় ঋণ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮০০ ব্যক্তিকে। এ থেকে বোঝা যায় ওই এলাকার প্রত্যেক আইডি কার্ডধারী ভোটার ঋণ পেয়েছেন? অথচ বাস্তবে তা নয়।
গুণরাজদী এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণ আদায় করতে গিয়ে ১৪৪ জন গ্রাহকের নাম-ঠিকানা খুঁজে পায়নি। যেসব ছবি দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তির নামের মিল কিংবা ভোটার আইডির বিন্দুমাত্র মিল নেই। এভাবেই তরপুরচ-ী ও বিষ্ণুদী এলাকায়ও কয়েকশ ব্যক্তির নামে অন্যের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ঋণ প্রদান করা হয়। তবে কত টাকা প্রদান করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য ওই শাখার কেউ সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি। তবে ব্যাংকের একটি সূত্রে জানা গেছে, এভাবে ভুয়া ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ৫ কোটি টাকার অধিক আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে একাধিক গরিব অসহায় ভূমিহীন ব্যক্তি (যাদের ছবি ব্যবহার করে ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে) ব্যাংকের ওই শাখায় নিজেদের সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ দাবি করে ঋণের দায় থেকে রেহাই পেতে আবেদন করেছেন।
জনতা ব্যাংক ষোলঘর শাখায় ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার আ. রব পাটওয়ারী অবসর নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার ব্যক্তিগত (০১৭১২০১৭৪৮৯) নাম্বারে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ওই শাখার বর্তমান ম্যানেজার সুফিয়া বেগম জানান, আমি এ শাখায় নতুন এসেছি, কাগজপত্র দেখছি। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
জনতা ব্যাংকের এরিয়া প্রধান (ডিজিএম) খালেদ মো. ইকবাল জানান, ঋণ গ্রহণকারী ভুয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দিয়েছি। ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজারসহ যে কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত