আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বৃহস্পতিবার, ঢাকা ॥ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৯ মাঘ ১৪২২ ॥ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা      শাহজালালে ব্যাক্তির শরীরে আড়াই কেজি স্বর্ণ      হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসায় বার্নিকাট      কৃষি সচিব হচ্ছেন আনোয়ার ফারুক       ‘মন্ত্রীরা বেতন নেয় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য’      নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী      কারিনার ‘ক্লিন ঢাকা’ কনসার্ট স্থগিত      
রাজধানীতে বেড়েছে কুকুরের উপদ্রব
Published : Thursday, 11 February, 2016 at 12:00 AM, Update: 11.02.2016 12:14:49 AM
দুলাল হোসেন
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেড়েই চলেছে। গত বছর ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকার ৬৬ হাজার ২০৪ জন কুকুর, বিড়াল, বানর ও শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। যার মধ্যে ৯৫ শতাংশই কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে রক্তঝরা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় আরআইজি ইনজেকশন সরকারিভাবে সরবরাহ না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ১ হাজার টাকা দামের এই ইনজেকশন বাইরের ফার্মেসি থেকে ১২ থেকে ১৩শ টাকা খরচ করে কিনতে হচ্ছে রোগীদের। বর্তমানে শুধু সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেই দিনে ৭ থেকে ৮শ কুকুরে কামড়ানো রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।    
গতকাল দুপুরে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত শতাধিক লোক চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। যার মধ্যে ২ বছরের শিশু থেকে বৃদ্ধও রয়েছেন। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরতরা জানান, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭৭৪ জন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। যার মধ্যে নতুন রোগী ছিলেন ১৯৬ জন। আর বুধবার (গতকাল) সকাল থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ২০০ নতুন রোগীসহ মোট ৬০০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঢাকার মিরপুর, কাফরুল, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, শ্যামপুর, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচরসহ আশপাশের এলাকা থেকে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত রোগী বেশি আসছে। এসব অঞ্চলের শিশুরা কুকুরের ভয়ে একা স্কুলে যেতে সাহস পায় না।  
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৫ হাজার ৩১ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪ হাজার ৫৮৭ জন, মার্চে ৫ হাজার ৭৭৬ জন, এপ্রিলে ৫ হাজার ১০৯ জন, মে মাসে ৫ হাজার ৫৭৯ জন, জুনে ৪ হাজার ৬৭৩ জন, জুলাইয়ে ৪ হাজার ২৫৫ জন, আগস্টে ৫ হাজার ৬৩১ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৪ হাজার ৯৭৯ জন, অক্টোবরে ৬ হাজার ৯১৫ জন, নভেম্বরে ৭ হাজার ১১ জন এবং ডিসেম্বর মাসে ৬ হাজার ৬৬৯ জনসহ মোট ৬৬ হাজার ২০৪ জন কুকুর, বিড়াল, বানর ও শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতালটিতে ২০১৩ সালে ৪৫ হাজার ৩১৩ জন এবং ২০১৪ সালে ৫৮ হাজার ৯৫০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশই কুকুরের কামড়ের রোগী।
চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুর, বিড়াল, বানর ও শিয়াল ‘র‌্যাবিস’ নামের একটি ভাইরাসের বাহক। এসব প্রাণীর কামড়ে রোগটি ছড়ায়। এ রোগটি একবার সংক্রমিত হলে বাঁচার উপায় থাকে না। যা ‘শতভাগ প্রাণঘাতী’ রোগ। কুকুরের কামড়ে এ রোগটি বেশি ছড়ালেও রাজধানীর কুকুর নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চিকিৎসকরা আরও বলেন, কুকুরের কামড়ে রক্তঝরা রোগীর চিকিৎসার জন্য আরআইজি ইনজেকশনের সংকট থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর কুকুরের কামড় বা আঁচড় দেওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে পানি ও কাপড় ধোয়ার সাবান দিয়ে ভালোভাবে ক্ষতস্থান ধুয়ে নিতে এবং যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্টে (মেডিসিন) ডা. মোসা. আঞ্জুমান আরা আমাদের সময়কে বলেন, কুকুর, বিড়াল, বানরের কামড়ে আক্রান্তদের এই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিদিন এই হাসপাতালে এ ধরনের ৭ থেকে ৮শ রোগী চিকিৎসা নেন। এসব রোগীর মধ্যে আড়াই থেকে ৩০০ জন থাকেন নতুন রোগী। এদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই কুকুড়ের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য আসেন। সরকারিভাবে সরবরাহকৃত মেডিসিনের মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে কুকুরের কামড়ের কারণে যাদের রক্ত ঝরেছে তাদের চিকিৎসা সরকারি ওষুধে দেওয়া যাচ্ছে না। রক্তপড়া রোগীদের চিকিৎসায় দরকার হয় আরআইজি ইনজেকশন। যেটি গত সাড়ে ৩ মাস ধরে সরকারিভাবে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এখন রক্তপড়া রোগীদের আরআইজি ইনজেকশন বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে। একটি আরআইজি ইনজেকশনের (১০০০ ইউনিট) দাম ১ হাজার টাকা হলেও ফার্মেসিগুলো ১২ থেকে ১৩শ টাকায় বিক্রি করছে। যারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নিচ্ছে সেসব দোকানিকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাবিস’ ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া কুকুরে কামড়ালে জলাতঙ্ক হয় না। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া আছে কী না, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই আমরা কুকুরে কামড়ানোর সঙ্গে-সঙ্গেই ভ্যাকসিন দেওয়া দরকার বলে মনে করি। না হলে জলাতঙ্ক ও ধনুষ্টংকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কুকুর নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, কুকুরের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একটি এনজিওর সঙ্গে আমাদের কার্যক্রম চলছে। তারপরও কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি ও বিদেশি সংস্থার সমন্বয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।



এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত