আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বৃহস্পতিবার, ঢাকা ॥ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৯ মাঘ ১৪২২ ॥ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা      শাহজালালে ব্যাক্তির শরীরে আড়াই কেজি স্বর্ণ      হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসায় বার্নিকাট      কৃষি সচিব হচ্ছেন আনোয়ার ফারুক       ‘মন্ত্রীরা বেতন নেয় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য’      নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী      কারিনার ‘ক্লিন ঢাকা’ কনসার্ট স্থগিত      
কানপাকার সঙ্গে টকজাতীয় ফল ও মিষ্টির সম্পর্ক
Published : Thursday, 11 February, 2016 at 12:00 AM, Update: 11.02.2016 12:11:43 AM
ডা. সজল আশফাক
কানপাকার সঙ্গে টকজাতীয় ফল ও মিষ্টির সম্পর্ককানের যত ধরনের রোগ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো কানপাকা। এ রোগ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকেÑ এক. নিরাপদ ধরনের কানপাকা; দুই. মারাত্মক ধরনের কানপাকা।
নিরাপদ ধরনের কানপাকা : এ রোগের চিকিৎসা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়ে করা সম্ভব। ওষুধে না সারলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনের দরকার পড়ে। অন্যদিকে মারাত্মক ধরনের কানপাকার চিকিৎসায় প্রায় সব ক্ষেত্রেই অপারেশনের দরকার পড়ে। এ কানপাকা রোগ নিয়ে সাধারণের মধ্যে অনেক ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকের ধারণা, টক খেলে কান পাকে। সাধারণের এ ধারণা একবারেই অমূলক। টকজাতীয় খাবার অর্থাৎ তেঁতুল, আমলকী, জলপাই, কামরাঙা, বড়ই, কাঁচাআম, জাম্বুরা, লেবু ইত্যাদি ফল খাওয়ার সঙ্গে কানপাকার কোনো ধরনের সম্পর্কই নেই। বরং এসব ফলে আছে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’সহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান, যা শরীরের বিভিন্ন রোগ-প্রতিরোধসহ শরীর গঠনে সাহায্য করে থাকে। এ ধরনের ঋতুভিত্তিক ফল যখনই পাওয়া যাবে, তখনই খাওয়া উচিত। এগুলো যে খুব উপকারী ফল, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ফল কখনো কোনো রোগ সৃষ্টি কিংবা রোগ নিরাময়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। বরং রোগ সারাতে সাহায্য করে। অথচ অনেক কানপাকা রোগী ইচ্ছাকৃতভাবে টকজাতীয় বিভিন্ন ফল গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন এ সম্পর্কিত সঠিক জ্ঞানের অভাবে।
কানপাকা রোগের কারণ এবং রোগ দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে টকজাতীয় ফলের কোনো যোগসূত্রই নেই।
একই ধরনের ভুল ধারণা আছে মিষ্টি সম্পর্কেও। কেউ কেউ মনে করেন, মিষ্টি কিংবা মিষ্টিজাতীয় বিভিন্ন খাবার খেলে কানব্যথা হয়, কান পাকে তথা কানের ক্ষতি হয়। সাধারণের এ ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোথাও এ ধরনের কোনো তথ্যও নেই। তবে আমাদের দেশে দীর্ঘ সময় ধরে টক সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচারের কারণে বংশ পরম্পরায় কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের মধ্যে এ ধারণা রয়েছে বেশ দৃঢ়ভাবে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, অনেক শিক্ষিত মানুষও এ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার প্রয়োজন মনে না করে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার ওপর নির্দ্বিধায় আস্থা রাখেন।
কানপাকা রোগ হওয়ার কারণ : এ রোগ হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। কানপাকা রোগ দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে টনসিলের সমস্যা, নাকের হাড় বাঁকা, নাকের অ্যালার্জি, ঘনঘন সর্দি-কাশি হওয়া, কানের যতেœর অভাব প্রধানত দায়ী। অনেক কানপাকা রোগ সঠিকভাবে কানের যতœ নিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের পরও সেরে ওঠে না। কাজেই শেষ কথা হচ্ছে, কানের রোগ সেরে ওঠা না ওঠা নির্ভর করে রোগের তীব্রতা ও ধরন, পাশাপাশি অন্য রোগের উপস্থিতি এবং রোগের সঠিক চিকিৎসা ও উপদেশ মেনে চলার ওপর। তা কখনই টকজাতীয় ফল গ্রহণের ওপর নির্ভর করে না।
লেখক : নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ
স্বাস্থ্যবিষয়ক নিবন্ধকার ও সহযোগী অধ্যাপক
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত