আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বৃহস্পতিবার, ঢাকা ॥ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৯ মাঘ ১৪২২ ॥ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা      শাহজালালে ব্যাক্তির শরীরে আড়াই কেজি স্বর্ণ      হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসায় বার্নিকাট      কৃষি সচিব হচ্ছেন আনোয়ার ফারুক       ‘মন্ত্রীরা বেতন নেয় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য’      নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী      কারিনার ‘ক্লিন ঢাকা’ কনসার্ট স্থগিত      
বিশ্বজিত রায়
গ্যাস সংকট : সংকীর্ণ ভবিষ্যৎ
Published : Thursday, 11 February, 2016 at 12:00 AM
গ্যাস সংকটে ছিল ঢাকা ও চট্টগ্রাম। এক সপ্তাহের এই দুর্ভোগে কোথাও কোথাও মধ্যরাতে কিংবা দিনের বেলায় নিভু নিভু করে জ্বলেছে চুলা। এতে করে একদিকে থমকে যায় শিল্প উৎপাদন, অন্যদিকে স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থায় বিরাজ করে মন্থরগতি। জাতীয় গ্রিডের গ্যাস লাইনের একটা বড় অংশে ময়লা জমে যাওয়াই এই আকস্মিক গ্যাস সংকটের কারণ। তবে লাইনে যে ময়লা জমেছে, সেটি কি একদিনে সৃষ্টি হয়েছে। নিশ্চয়ই না। এটি ধীরে ধীরে ভোগান্তির আকার ধারণ করেছে। এমন অসাবধানতামূলক অহেতুক ঘটনা ঘটলেই টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আর তখনই শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। এগুলোকে কি দায়িত্বহীনতার প্রতিযোগিতা বলবেন, না কর্তব্য পালনে খামখেয়ালিপনা বলবেন। আমি বলব, এটা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হওয়ার নমুনা। চুলায় গ্যাস নেই, তাই গ্যাসের দাবিতে মানুষকে রাস্তায় নামতেও দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেছেন, ‘গ্যাসের সংকট আছে, এটা অস্বীকার করছি না। এই সংকট দূর করতে চেষ্টা করছি। সংকট কাটাতে ব্যবস্থা নিচ্ছি’। অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সাময়িক ব্যবস্থা নিলে চলবে না। ভবিষ্যতের কথা ভেবে সরকারকে দীর্ঘ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।
গ্যাস সংকটে সরগরম সংবাদপত্রের পাতা। আলোচনা-সমালোচনার বাক্সটাও বেশ পরিপূর্ণ। কেউ বলছেন পরিকল্পিত, কেউ বা শীতকালীন, কারও মুখে সাময়িক নতুবা পাইপে ময়লা, অনেকে আবার সরকারের মু-ুপাত করে ক্ষমতাসীন দলকে ঘায়েল করার চেষ্টায় মত্ত রয়েছেন। পক্ষে-বিপক্ষে এমন ঠক-ঝাল-মিষ্টি কথোপকথন হতেই পারে। বিষয়টা হলোÑ গ্যাস সংকট মানে রান্নাঘরে তালা, রান্নাঘর বন্ধ মানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত প্রকল্প স্থগিত, খাদ্য তৈরিতে বিঘœতা মানে ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট, ক্ষুধায় ছটফটানি মানেই মাথা গরম, আর মস্তিষ্ক গরমের পরবর্তী অ্যাকশনটা কী হতে পারে? সহজ-সরল ভাষায়Ñ রাগান্বিত অঙ্গভঙ্গিতে উচ্চৈঃস্বরের গালাগাল। সেটা ঘরের গিন্নিই বলুন আর গ্যাস সংকটের উদ্দেশ্যেই বলুন। যে যাই বলুক, গ্যাস সমস্যার বাড়তি ভোগান্তির চিপাকলে পিষ্ট হচ্ছে গৃহিণী সমাজ। কারণ পরিবারের সব সদস্য যে গৃহকত্রীর হস্তপানে চেয়ে থাকেন। তিনি কখন রান্নাকার্য সম্পাদন করবেন আর কখন সবাই পেট ভাসাবেন ভোজন রসিকতায়। গৃহিণীদের নিত্যকর্মের অন্যতম আশ্রয়স্থল হচ্ছে রান্নাঘর। সেই রান্নাঘর পরিপাটির প্রধান অনুষঙ্গ চুলাতেই যদি অগ্নিপ্রবাহের গতি না থাকে তাহলে সবই যে মিছে। কর্মশক্তি হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে জীবন নামের অনাহারী দেহটা। এটা তো গেল আবাসিক সমস্যার প্রকটতা। এদিকে গাড়ির চাকা যেমন থেমে গেছে, তেমনি গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগে পড়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প-কারখানা যদি বন্ধ থাকে তাহলে অচল হয়ে পড়বে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ঠাট্টু ঘোড়া। তখন দেশের সামগ্রিক অবস্থা কী হতে পারে তা বলা মুশকিল।
দেশের অন্যতম খনিজ সম্পদ হচ্ছে গ্যাস। মৃত্তিকা গভীরে মজুদকৃত এই খনিজ সম্পদ পূরণ করে চলেছে আমাদের নিত্যচাহিদা। রান্নাবান্না, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ-পরিবহনসহ কোথায় নেই গ্যাসের ব্যবহার। একদিন গ্যাস বিপর্যয় মানে মাথায় হাত। চারপাশে উঠবে হাহাকার রব। জীবন হয়ে পড়বে স্থবির। গভীর সংকটে আবদ্ধ হবে দেশ। শুধু বাংলাদেশই নয়, গ্যাসের চাহিদা রয়েছে বিশ্বব্যাপী। কিন্তু আমরা কি আমাদের এই মূল্যবান জ্বালানি সম্পদটির সঠিক ব্যবহার ও উত্তোলনের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারছি। উত্তরটি হবে ‘না’। স্মরণ করিয়ে দিতে চাই সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসকূপের কথা। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি রাত ১০টায় টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটেছিল। দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটেছিল একই বছরের ২৪ জুন রাত ২টায়। যেখানে দিনের পর দিন গ্যাসের লেলিহান শিখা উদ্গিরিত হয়ে মিলিয়েছে আকাশসীমায়। গ্যাসের কঠিন তাপে শ্রীহীন হয়ে পড়েছে সেখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশ। নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ জ্বালানিসামগ্রী। কোনো কিছুর বিনিময়ে এই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অপরিকল্পিত এ বিপর্যয় আমরা তাৎক্ষণিক ঠেকাতে পারিনি। গ্যাস উত্তোলনে আমরা অনেকটা বিদেশনির্ভর। সেই প্রযুক্তিগত সামর্থ্য নেই বাংলাদেশের। তাই বাধ্য হয়ে প্রযুক্তিসম্পন্ন কোনো বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতায় বসতে হয়। এতে করে গ্যাসের একটা বিশেষ অংশ চলে যায় তাদের দখলে। এ ছাড়া রয়েছে নানা বাধ্যবাধকতা।
অবৈধ গ্যাস সংযোগের কথা আর কী বলব। এই অনৈতিক অবৈধ লাইন রয়েছে সর্বত্র। এ ব্যাপারে সরকার একেবারে উদাসীন। আবাসিক ব্যবহারেও রয়েছে যথেষ্ট খেয়ালি মনোভাব। নিজস্ব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আমরা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছি না। কথায় আছে নাÑ ‘বাড়ির গরু বাড়ির ঘাস খায় না।’ গ্রামবাংলায় প্রচলিত এই প্রবাদ আওড়ানোর অর্থ হলোÑ ধরুন বাসায় আপনার গ্যাসের চুলাটা জ্বলছে, রান্না করলে চুলায় গ্যাস জ্বলবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু রান্না শেষে যখন চুলার চাবিটা চাপ দিয়ে বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারে না কেউ প্রবাদ শোনানোর ক্ষেত্রটা তখনই সামনে আসে। অপ্রয়োজনে গ্যাস জ্বালিয়ে দেশের সম্পদ নষ্ট করলে একদিন যে জ্বালানির জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হবে সে হিসাব কি আছে কারও। গ্যাস না থাকলে শহুরে জীবন হয়ে পড়বে একেবারে সংকটাপন্ন। এ থেকে পরিত্রাণের কোনো সুযোগ থাকবে না তখন। অসচেতন গৃহিণীদের দায়িত্বহীন এই কর্মই বলে দেয়Ñ ‘ঘরের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলার চেষ্টা’ বৈকি।
গেল বছর বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল সরকার। বিশেষজ্ঞ মহল বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি মানতে না পারলেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ একমত। কারণ অন্যান্য দেশে আমাদের তুলনায় গ্যাসের মূল্য অনেক বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্যাসের অবৈধ সংযোগ যদি বিচ্ছিন্ন করতে পারত সরকার তাহলে মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজন পড়ত না। পত্রিকান্তরে জানা যায়, রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোয় গ্যাসের অবৈধ পাইপলাইন রয়েছে ৩০০ কিলোমিটার। এই লাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করছেন কমবেশি ১ লাখ গ্রাহক। ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোয় গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত তিতাস গ্যাস সম্প্রতি অনুসন্ধান চালিয়ে এই অবৈধ পাইপলাইনের অস্তিত্ব খুঁজে পায়। প্রতিদিন অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণ ১৫ লাখ ঘনফুট। আর এই অবৈধ ব্যবহারের ফলে গ্যাস সংকট পোহাতে হচ্ছে বৈধ গ্রাহকদের। সম্প্রতি এই অবৈধ পাইপলাইন উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন অনতিবিলম্বে এসব এলাকায় অভিযান চালাবে। এ জন্য তিতাস থেকে অবৈধ লাইনের চিত্রসহ সার্বিক তথ্য স্থানীয় প্রশাসনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এখনো বড় মাত্রায় কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ লাইন স্থাপনের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তিতাসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। একটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ বেরিয়েছে, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস চুরি বন্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। চট্টগ্রামের কালুরঘাট ও ইপিজেড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিটার বাইপাস করে গ্যাস ব্যবহারের দায়ে তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ কারখানা দুটিকে ৯০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যান্য সংবাদপত্রের পাশাপাশি গত ৬ ফেব্রুয়ারি আমাদের সময়ে ‘গ্যাস-সন্ত্রাসীরা অপ্রতিরোধ্য’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই সংবাদে বলা হয়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাজধানীতে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস চুরির সংঘবদ্ধ চক্র। সর্বত্রই যখন গ্যাসের তীব্র সংকট, তখনো থেমে নেই এসব সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। দিয়ে যাচ্ছে অবৈধ সংযোগ। হাজার হাজার বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া এ সংযোগে গ্যাস আসুক আর না আসুক মাসশেষে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এসব টাকার এক কানাকড়িও জমা পড়ে না সরকারি কোষাগারে। এতে চাপ বাড়ছে গ্যাসের ওপর। আর ভুক্তভোগী বৈধ সংযোগকারীরা। রাজধানীর যেসব এলাকায় নতুন আবাসন গড়ে উঠেছে, সেখানেই রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা প্রায় সব বস্তিতেই চোরাই লাইনে টানা গ্যাসে জ্বলছে চুলা। স্থানীয় মাস্তান বাহিনী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং তিতাসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের নামে মাসের নির্ধারিত তারিখে পৌঁছে যাচ্ছে চাঁদার টাকা। অবৈধ সংযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মূল্যবান এই সম্পদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করতে না পারলে একদিন বৃহৎ সংকটে পড়বে দেশ এবং অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি গ্রাহকদের।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে মূল কারণ গ্যাসের মজুদ কমছে। দ্রুত পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প ভাবতে হবে। এ জন্য আমরা এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করার বিষয়ে আগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। আগামী তিন বছরের মধ্যে ৭০ শতাংশ মানুষকে এলপিজির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’ জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকার একেবারেই কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, তা বলা যাবে না। এ ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ভিন্নতাও লক্ষ করা যাচ্ছে।
এলপিজি ব্যবহারে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে চাচ্ছে সরকার। প্রকৃতপক্ষে শিল্প খাতের বাইরে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করতে চাচ্ছে না। আবাসিক ও যোগাযোগ খাতে এলপিজি (তরলীকৃত খনিজ গ্যাস) ব্যবহারের নীতি বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। অথচ দেশে এলপি গ্যাস নিয়ে চলছে ভয়াবহ নৈরাজ্য। বাজারে এই গ্যাসের সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকেরও কম। বিদ্যমান গ্যাস সংকটের মধ্যে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের জন্য কার্যত হাহাকার চলছে দেশজুড়ে। ভোক্তাদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে এই গ্যাস। তাহলে সরকারের এই পরিকল্পনা কি ভেস্তে যাবে। এলপিজিতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাড়ে ১২ কেজির প্রতি সিলিন্ডারে সরকার ৪০০ টাকা ভর্তুকি দেয়। বর্তমানে সরকারি সিলিন্ডারগুলোর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য ৭০০ টাকা। কিন্তু এগুলো ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ জনগণ ভর্তুকির সুবিধা তো পাচ্ছেই না, উল্টো আরও বাড়তি টাকা দিয়ে এলপি গ্যাস কিনতে হচ্ছে তাদের। তার মানে এখানেও সরকারের উদাসীনতা এবং দায়িত্বহীনতা রয়েছে। যার সুযোগে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা ভর্তুকির টাকার সঙ্গে আরও অতিরিক্ত টাকা পকেটে ভরছেন। আর সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকশ্রেণি।
সবকিছুরই শেষ আছে। মৃত্তিকাতলে মজুদকৃত গ্যাসও হয়তো একদিন ফুরিয়ে যাবে। গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত ব্যবহারসহ নানা কারণে প্রাকৃতিক এই খনিজ সম্পদটি দিন দিন নিঃশেষ হচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে। যদি সর্বক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য মহামূল্যবান এ জ্বালানির অপ্রতুলতা দেখা দেয় তাহলে কী হবে। এক সপ্তাহের সংকটে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মানুষ কিছুটা আঁচ করতে পেরেছে গ্যাসহীন দেশের সামগ্রিক অবস্থা কী হতে পারে। তাই সময় থাকতে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে। সূত্রমতে, এখন পর্যন্ত ২৬টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। ২০টি উৎপাদনে রয়েছে। ২৭ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রমাণিত মজুদ থেকে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১২ দশমিক ৯৬ টিসিএফ; বাকি আছে ১৪ দশমিক ১৬ টিসিএফ গ্যাস। স্থলভাগে নতুন করে গ্যাসের বড় মজুদ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বর্তমান হারে গ্যাসের খরচ অব্যাহত থাকলে আগামী ১৬ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০৩১ সালে মজুদকৃত গ্যাস শেষ হয়ে যাবে। দেশের শিল্প-কারখানার চাকা সচল অর্থাৎ অর্থনীতির গতি অব্যাহত রাখতে এখন থেকেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই বিকল্প প্রস্তুতি হিসেবে সমুদ্রবক্ষে নজর দেওয়া দরকার। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সাগরের গ্যাস দ্রুত আহরণের আহ্বান জানিয়েছেন এ খাতসংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে সঠিক পথে হাঁটা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
লেখক : কলামনিস্ট



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত