আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বৃহস্পতিবার, ঢাকা ॥ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৯ মাঘ ১৪২২ ॥ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা      শাহজালালে ব্যাক্তির শরীরে আড়াই কেজি স্বর্ণ      হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসায় বার্নিকাট      কৃষি সচিব হচ্ছেন আনোয়ার ফারুক       ‘মন্ত্রীরা বেতন নেয় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য’      নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী      কারিনার ‘ক্লিন ঢাকা’ কনসার্ট স্থগিত      
ধর্ম
পিতা-মাতার ভূমিকা
Published : Thursday, 11 February, 2016 at 12:00 AM
মাহমুদ আহমদ
আল্লাহতাআলা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। কোরআন করিমে আল্লাহপাক শিক্ষাকে ‘আলো’ এবং মূর্খতাকে ‘অন্ধকার’ বলে উল্লেখ করেছেন। যারা শিক্ষার আলোয় আলোকিত তাদের ‘উৎকৃষ্ট জীব’ বলা হয়েছে, অপরদিকে যাদের শিক্ষার আলো নেই তাদের ‘নিকৃষ্ট জীব এবং অন্ধ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহতাআলা আদেশ করেছেন, ‘তুমি পাঠ করো কেননা তোমার প্রতিপালক পরম সম্মানিত, যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে তা যা সে জানত না’ (৯৬:৩-৮)। ‘যাকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে’ (২: ২৬৯)। তিনি আরও বলেন, ‘তুমি বলো যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? বস্তুত ধীসম্পন্ন লোকজনই কেবল শিক্ষা লাভ করে’ (৩৯: ৯)।
জ্ঞানার্জনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে আল্লাহতাআলা বান্দাকে দোয়া শিখিয়েছেন, ‘হে আমার প্রভু! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো’ (২০ : ১১৫)। কোরআনপাকে বারবার শিক্ষালাভ সম্পর্কে তাগিদ করা হয়েছে। শিক্ষালাভ সম্পর্কে আল্লাহতাআলার আদেশের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর ও নারীর জন্য ফরজ’ (ইবনে মাজাহ)। তিনি (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিদ্যা শিক্ষার পথ অনুসরণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেবেন’ (মুসলিম)। তিনি (সা.) আরও বলেছেন, ‘একজন বিশ্বাসীর জ্ঞান অন্বেষণ প্রচেষ্টা শেষ হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে জান্নাতে দাখিল হয়’ (তিরমিযি)।
শিক্ষা মানুষকে আয়ত্ত করতে হয়। জন্মের পর থেকে শিশু তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে শিখতে শুরু করে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে ও বংশগতভাবে কতগুলো বিষয় শিশুর মধ্যে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। বিশেষ করে মাতৃগর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় মাতার অনেক আচরণ ও আমল শিশুর মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। কিন্তু সাধারণ অর্থে শিক্ষার যে সংজ্ঞা, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, জন্মের পর একটি সত্যিকার মানুষরূপে গড়ে তুলতে সাহায্য করে ‘শিক্ষা’। মানুষকে নীতিবান ও বিবেকবান করে তোলে ‘শিক্ষা’। এ কারণে আগে যে শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল তা ছিল গুরুগৃহে অবস্থানপূর্বক শিক্ষা লাভ করা। এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীকে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর গুরুগৃহে অবস্থান করতে হতো। শিক্ষাগুরু শিক্ষার্থীকে দৈনন্দিন শিষ্টাচার, ধর্মীয় শিক্ষাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দিতেন। প্রাচীন ভারতেও এ ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। শিক্ষার্থী শিক্ষাগুরুর শিষ্যত্ব লাভ করে সাহচর্যে থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রে পা-িত্যসহ চরিত্র গঠন, আদব-কায়দা ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভের সুযোগ পেত। গুরুগৃহে শিষ্যের অবস্থানের মেয়াদ ছিল ৫ বছর থেকে ১০-১৫ বছরকাল। তখন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা খুবই কম ছিল। থাকলেও প্রথমে গুরুগৃহে শিক্ষা গ্রহণ করতে হতো। তাই দেখা যায় বড় বড় মনীষী ও জ্ঞানী-গুণী প-িত যারা গত হয়েছেন তারা কোনো না কোনো গুরুর শিষ্য হয়ে জ্ঞান লাভ করেছেন। অনেক সময় দেখা গেছে যে, শিষ্য গুরুকে ছাড়িয়ে গেছেন। তবে এ পদ্ধতিতে শিক্ষা লাভ করাকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা লাভ করা হয় বলে ধরা যায় না। ইসলাম এ পদ্ধতিকে সমর্থন করে না। কারণ এ পদ্ধতিতে শিক্ষা লাভ করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়, কেবল বিত্তবান, সামর্থ্যবান এবং কোনো জ্ঞানপিপাসুরাই এভাবে শিক্ষা লাভ করতে পারত। এতে খুব অল্পসংখক মানুষ শিক্ষা লাভের সুযোগ পেত, সিংহভাগ মানুষ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতো কিন্তু ইসলামই সবার জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা দিয়েছে।
জন্মের পর শিশুর শিক্ষা পরিবারের আওতাভুক্ত থাকে। পরিবার ও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভালো হলে শিশুর শিক্ষাও সঠিক এবং সুন্দর হয়। এখানে শিশুর শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার ভূমিকাই প্রধান। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আগে গৃহের পরিবেশই হলো শিশুর প্রাথমিক শিক্ষাঙ্গন, যেখানে শিশুর সত্যিকার স্তম্ভ গঠিত হয়। তাই শিশুকে ইসলামি শিক্ষায় গড়ে তোলার পেছনে পিতা-মাতার ভূমিকাই সর্বাগ্রে।
লেখক : ইসলামি গবেষক


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত