আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বৃহস্পতিবার, ঢাকা ॥ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৯ মাঘ ১৪২২ ॥ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা      শাহজালালে ব্যাক্তির শরীরে আড়াই কেজি স্বর্ণ      হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসায় বার্নিকাট      কৃষি সচিব হচ্ছেন আনোয়ার ফারুক       ‘মন্ত্রীরা বেতন নেয় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য’      নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী      কারিনার ‘ক্লিন ঢাকা’ কনসার্ট স্থগিত      
বিএম বরকতউল্লাহ্র গল্প
ভূত ঢুকেছে বইমেলায়
Published : Thursday, 11 February, 2016 at 12:00 AM, Update: 11.02.2016 12:15:08 AM
ভূত ঢুকেছে বইমেলায়বইমেলার এক কোণে বসে অঙ্কন শিল্পীরা জম্পেশ আড্ডা দিচ্ছিল। তারা হো হো, কিৎ কিৎ করে হাসছিল। আর ফাঁকে ফাঁকে ঝালমুড়ি ছুঁড়ে মারছিল মুখে।
হঠাৎ হাসি থেমে গেল। মুড়ি চিবানি বন্ধ। তাদের মাথার ওপরে গাছ। তার ওপর দিয়ে মাথা বের করে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল জন্তু।
জন্তুটি গমগম আওয়াজ করে বলল, তোরা কারা?
আমরা অঙ্কন শিল্পী।
কীসের ছবি আঁকস তোরা?
ভূত, পেতœী, পশুপাখিÑ এই আর কী!
ভূত দেখেছিস?
নাহ।
তাহলে ভূতের ছবি আঁকস কীভাবে?
এই ধরেন লেখকরা লেখে গল্প। গল্প পড়ে একটা আইডিয়া লই। তারপর ভয়ঙ্কর ভূতের ছবি আঁকি। যত ভয়ঙ্কর তত ডিমান্ড।
আমি ভূত। এখন আমার ছবি আঁক।
এ কথা শুনে অঙ্কন শিল্পীরা ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। একজন বলল, আমরা জীবনেও আর ভূতের ছবি আঁকব না, কসম।
না দেখেই ভূতের ভয়ঙ্কর ছবি এঁকে তোরা আমাদের বেজায় ক্ষতি করেছিসÑ বলেই ভূতটা ওদের পেছনে ফুঁ দিল। আর সঙ্গে সঙ্গে লেজ গজাতে শুরু করল। গরুর লেজের চেয়েও লম্বা। পিঠে কুঁজ বানিয়ে উটের মতো বানিয়ে দিল। এখন বইমেলাজুড়ে হেঁটে বেড়াবি তোরা, যা।
শিল্পীরা বলল, আমাদের লেজ আর কুঁজ গজিয়ে গেল আর লেখকদের জন্য কী ব্যবস্থা?
ভূতটা বললÑ লেখক কোথায়, দেখা আমাকে।
শিল্পীরা লেজ নেড়ে দুই হাতের দশ আঙুলে লেখক আড্ডার জায়গাটা দেখিয়ে দিল।
দুই
লেখকরা তখন আড্ডা মারছে, কেউ অটোগ্রাফ দিচ্ছে। কেউ বা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে।
ভূত সেখানে গিয়ে হাজির। ভূতটা বললÑ তোরা কারা?
আমরা লেখক।
কী লিখস তোরা?
শিশুদের জন্য গল্প লিখি, বিশেষ করে ভূতের গল্প। মেলায় ভূতের বই বেশি চলে। বিশ্বাস না করলে কয়েকটা স্টল ঘুরে দেখতে পারেন। (ভূত খুশি হবে ভেবে একটু বাড়িয়ে বলল তারা)।
ভূত বলল, আমি ভূত। আমাকে নিয়ে এখন গল্প লেখ।
ভয়ের মধ্যে গল্প জমে না জনাব। একজন দুই হাঁটু জোরে ঝাঁকি দিয়ে বললÑ দেখছেন না, ভয়ে ক্যামনে কাঁপছি, থত্থর!
তোরাই ইচ্ছেমতো গল্প ফেঁদে মানবসমাজে ভূতকে ভয়ঙ্কর করে তুলেছিস। তোদের দশা কী করি দেখবি এখন। তোদের লিডার কে, বল? সবাই যাকে দেখাল, তিনি একজন সম্মানিত ও জনপ্রিয় লেখক। তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা!
তিন
ভূতটা লেখকদের নাকটা টান মেরে দেড় ফুটের মতো লম্বা করে দিল। কান দুটি টেনে কুলার মতো করল, ভ্রু টেনে সামনে এনে বারান্দার মতো ঝুলিয়ে দিল, মাথায় চাপ দিয়ে চ্যাপ্টা করে ফেলল, দুই কাঁধ দুদিকে টেনে বড় করে দিল। তারপর ভেংচি মেরে বললÑ এখন মেলাজুড়ে ঘুরে বেড়াবি, যা। মেলাজুড়ে হুড়োহুড়ি। শিশুরা ভূত লেখক আর অঙ্কন শিল্পীদের এ অবস্থা দেখে আনন্দে ফেটে পড়ছে। বইয়ের বেচাকেনা হচ্ছে না মোটেওÑ খালি হাঙ্গামা হচ্ছে। প্রকাশকদের মাথায় হাত। তারা লোকসানের কাহিনি শুনিয়ে বললেনÑ আমরা এখানে মেলা করতে এসেছি, কৌতুক করতে আসিনি।
মেলা কর্তৃপক্ষ পড়ে গেল ভীষণ ফ্যাসাদে। তারা গেলেন লেখক-শিল্পীদের কাছে।
তারা বললেন, দেখুন আমরা লেখক-শিল্পী মানুষ। লেখা আর আঁকা দিয়ে জগৎটাকে ওলটপালট করে দিতে পারি। আর মেলার এ সমস্যা তো ছাই।
চার
লেখক আর শিল্পীরা মিলে পরের দিন পত্রিকায় একটা বিজ্ঞাপন দিয়ে দিলেনÑ ‘গতকাল হঠাৎ করেই বইমেলা ভূতের মেলায় পরিণত হয়েছিল। ভূতের সঙ্গে লেখক, শিল্পী, পাঠক, শিশু, অভিভাবকরাও দারুণ মজা করেছেন এবং সেলফি তুলেছেন। এটা ক্রেতা-পাঠকদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এ আনন্দ চলবে মেলা চলাকালীন।’
ব্যস, এ বিজ্ঞাপন সব পত্রিকায় বড় বড় অক্ষরে প্রকাশিত হলো।
পরের দিনগুলোয় মেলায় ভিড়-বাট্টা আর বিক্রি এতই বেড়ে গেল যে, কর্তৃপক্ষকে মোতায়েন করতে হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব।




সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত