আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বৃহস্পতিবার, ঢাকা ॥ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৯ মাঘ ১৪২২ ॥ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা      শাহজালালে ব্যাক্তির শরীরে আড়াই কেজি স্বর্ণ      হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসায় বার্নিকাট      কৃষি সচিব হচ্ছেন আনোয়ার ফারুক       ‘মন্ত্রীরা বেতন নেয় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য’      নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী      কারিনার ‘ক্লিন ঢাকা’ কনসার্ট স্থগিত      
হরতাল-অবরোধে নাশকতায় মামলা হয়, বিচার শেষ হয় না
Published : Thursday, 11 February, 2016 at 12:00 AM, Update: 11.02.2016 12:12:56 AM
রহমান জাহিদ
হরতাল-অবরোধে নাশকতার ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, মামলায় চার্জশিটও হয়। কিন্তু বিচার শেষ হয় না। বিগত ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি সরকার এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নাশকতার অভিযোগে হাজার-হাজার মামলা হলেও কোনোটিরই বিচার শেষ হয়নি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ছয় বছরে একই অভিযোগে ঢাকায় বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ৪৯টি এবং ঢাকা জেলায় ৭টি থানায় দ্রুত বিচার আইনে, দ-বিধিতে, বিস্ফোরক আইনে, মোবাইল কোর্ট আইনে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে ওইসব মামলা করা হয়। কিন্তু কোনো মামলাই এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হরতাল-অবরোধে নাশকতার অভিযোগে রাজধানীতে বিএনপি-জামায়াতসহ ২০-দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে প্রায় ১ হাজার মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তবে চার্জশিট হওয়া মামলাগুলোর নব্বইভাগেরই এখনো চার্জগঠন করা হয়নি। আবার শতাধিক মামলায় চার্জগঠন হলেও শুরু হয়নি সাক্ষ্যগ্রহণ।
সূত্র আরও জানায়, চার্জশিট হওয়া মামলাগুলোয় বিচার শুরু না হওয়ার কারণ হলো, অধিকাংশ নাশকতার মামলাতেই বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা আসামি। এসব মামলার ধার্য তারিখে সব আসামি উপস্থিত না থাকায় সময় আবেদন করা হয়। আবার কোনো আসামি অন্য কোনো মামলায় কারাগারে থাকলে ধার্য তারিখে তাকে আদালতে হাজির করা না হলেও চার্জ শুনানি পেছানো হয়। এভাবেই তারিখের পর তারিখ ধার্য হয়ে মামলাগুলো অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে সরকার পরিবর্তন হলে মামলাগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়।
জানা গেছে, বর্তমানের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে নাশকতার ৭৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তবে মাত্র একটি মামলায় চার্জগঠন করতে পেরেছেন আদালত।
বিভিন্ন মামলার নথি ঘেঁটে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় ২০১২ সালের ১০ মে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ৪৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। কিন্তু ওই মামলায় এখনো বিচার শুরু হয়নি। একইভাবে ২০১৩ সালের ২ মার্চ মালিবাগে বাটা সু স্টোরের সামনে নাশকতার অভিযোগে ওই বছর ২০ মার্চ ফখরুলসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়। কিন্তু এ মামলাটিতে চার্জগঠন হয়নি।
এছাড়া ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীর ডেমরা রোডে বাসে পেট্রলবোমা হামলা  মামলায় ওই বছর ২৮ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলাতে চার্জশিট গ্রহণের জন্য এ পর্যন্ত ৫টি ধার্য তারিখ গেলেও চার্জশিট গ্রহণ করেননি আদালত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হরতাল-অবরোধে নাশকতার অভিযোগে হত্যাসহ যত গুরুত্বপূর্ণ মামলাই হোক সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর অতীতে হরতাল-অবরোধে নাশকতায় হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহার করেছে। বর্তমান সরকারের সময়ও হরতাল-অবরোধে নাশকতায় যেসব মামলা হয়েছে তা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে-সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার হবে।
২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারও হরতাল-অবরোধে নাশকতার ৫ হাজার ৮৮৮টি মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং ৯৪৫টি মামলা থেকে কিছু আসামিকে অব্যাহতি দেয়। ওইসব মামলা প্রত্যাহারে মোট ৭৩ হাজার ৫৪১ আসামি বিচার এড়াতে সক্ষম হন।
অন্যদিকে বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক বিবেচনায় খুন, ধর্ষণ ও ডাকাতির মামলাসহ মোট ৭ হাজার ১৭৩টি মামলা প্রত্যাহার করেছে। এতে বিচার এড়াতে সক্ষম হন প্রায় ১ লাখ অভিযুক্ত।
এ সম্পর্কে বিএনপিদলীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, হরতাল-অবরোধে নাশকতা ঘটলেই বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিএনপির এমন কোনো নেতা নেই যে যার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা নেই। অথচ যারা নাশকতা চালায় তাদের ধরা হয় না। শুধু রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্যই মামলাগুলো দায়ের করা হয়। মামলাগুলোয় অনেক আসামি থাকায় বিচার বিলম্বিত হয়।
অন্যদিকে এ সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, চার্জশিট হওয়ার পর আমরা চেষ্টা করি দ্রুত মামলাগুলোর বিচার শুরু করতে। কিন্তু আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সময় নেওয়ায় বিচার বিলম্বিত হয়।



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত