আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বৃহস্পতিবার, ঢাকা ॥ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৯ মাঘ ১৪২২ ॥ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা      শাহজালালে ব্যাক্তির শরীরে আড়াই কেজি স্বর্ণ      হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসায় বার্নিকাট      কৃষি সচিব হচ্ছেন আনোয়ার ফারুক       ‘মন্ত্রীরা বেতন নেয় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য’      নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী      কারিনার ‘ক্লিন ঢাকা’ কনসার্ট স্থগিত      
বেড়েই চলেছে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুদ
চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ রেশনিং চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ
Published : Thursday, 11 February, 2016 at 12:00 AM
মো. মাহফুজুর রহমান
গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি গুদামে খাদ্যশস্য মজুদ ছিল ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬৪ টন। চলতি বছরের একই দিনে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭ হাজার ৬০৭ টন। এর মধ্যে বর্তমানে চলছে আমন ক্রয় অভিযান। এপ্রিলে আসছে গম ও মে মাসে শুরু হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বোরো সংগ্রহ অভিযান। এ অবস্থায় মজুদজটে থাকা সরকারি গুদামের মজুদ কমাতে সরকার ‘গ্রামীণ রেশনিং’ চালুর উদ্যোগ নিলেও পদ্ধতিগত কারণে চলতি অর্থবছরে তা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গতকাল আমাদের সময়কে জানান, গ্রামীণ রেশনিং চালুর বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পরে হলেও গ্রামীণ জনপদের মানুষকে একটা সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। কবে নাগাদ এই রেশনিং পদ্ধতি বাস্তব রূপ নেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রস্তাবটি পাস হলে যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চলতি অর্থবছর শেষ হতে মাত্র পাঁচ মাস বাকি। এই সময়ের মধ্যে গ্রামীণ রেশনিং চালু করা সম্ভব কিনা জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক পদস্থ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানান, এখনো নীতিমালা অনুমোদিত হয়নি। এরপর কয়েক ধাপে যে প্রক্রিয়াগুলো শেষ করতে হবে তাতে চলতি অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রামীণ রেশনিং চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমরা সারাদেশে গ্রামীণ রেশনিংয়ের মাধ্যমে টিআর-কাবিখার প্রায় ৪ লাখ টন চাল-গম বণ্টন করার পরিকল্পনা নিয়েছি। দুই মাসের জন্য ১৩ টাকা কেজি দরে গম ও ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করলে এই মজুদ শেষ হয়ে যাবে। তবে এর জন্য সরকারের অনুমোদন লাগবে। তবে খাদ্যমন্ত্রী ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি) কর্মসূচি আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বরাদ্দ দ্বিগুণসহ দাম আরও কমানো হবে। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবকিছুই করা হবে।
জানা গেছে, মজুদ কমাতে সরকার গ্রামীণ রেশনিং চালুর উদ্যোগ নিলেও আগে উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়নে ইউনিয়ন কমিটি গঠন, উপজেলা উপকারভোগীদের তালিকা ইত্যাদি যাচাই করতে হবে। এছাড়া কমিটির কার্যপরিধি নির্ণয়, উপকারভোগী বাছাইয়ের মানদ-, মূল্য নির্ধারণ, ডিলার নিয়োগ, খাদ্য উত্তোলন প্রক্রিয়ার কাজও শুরু করতে হবে। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরে এ কর্মসূচি শুরু করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কেএস মুর্শিদ বলেন, চাল-গম সংগ্রহ নিয়ে এবার শুরু থেকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি আছে। সংগ্রহ মৌসুমে সরকার যদি এই বিপুল পরিমাণ চাল বাজারে ছাড়ে, তাহলে ধানের দাম কমে যাবে। তাই এখন আর সরকারের লোকসান কমাতে গিয়ে কৃষকের লোকসান বাড়ানো উচিত হবে না। এই চাল-গম বাজারে না ছেড়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বণ্টন করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সরকারের উচিত দ্রুত এই চাল-গমের মান পরীক্ষা করে তারপর তা কোন খাতে কীভাবে ব্যয় হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া।



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত