আজকের সকল শিরোনাম
ফটোগ্যালারি
বৃহস্পতিবার, ঢাকা ॥ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ॥ ২৯ মাঘ ১৪২২ ॥ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৭
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা      শাহজালালে ব্যাক্তির শরীরে আড়াই কেজি স্বর্ণ      হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রশংসায় বার্নিকাট      কৃষি সচিব হচ্ছেন আনোয়ার ফারুক       ‘মন্ত্রীরা বেতন নেয় বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য’      নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাতে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী      কারিনার ‘ক্লিন ঢাকা’ কনসার্ট স্থগিত      
প্রতিশ্রুত সময়ে এলো না ত্রিপুরার একশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
Published : Thursday, 11 February, 2016 at 12:00 AM
লুৎফর রহমান কাকন
ভারতের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গত ডিসেম্বরেই আসার কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যুতের মূল্য নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় আসেনি। এরপর গত ৯ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে মূল্য নির্ধারিত হয় ইউনিটপ্রতি ৫ রুপি বা ৬ টাকা ৪৩ পয়সা। বৈঠকোত্তর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নতুন করে জানানো হয়, আগামী এক মাসের মধ্যে ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আসবে বাংলাদেশে। এ সময় দুদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদ্বয়ও উপস্থিত ছিলেন। এরপর মাসাধিককাল পেরিয়ে গেলেও দুই মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আসেনি।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করতে আরও এক মাস লেগে যাবে। দুই দেশেরই বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরুর সকল অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় এ বিলম্ব। পিডিবি সূত্রে জানা যায়, দুই দেশের মধ্যে পাওয়ার পারচেস এগ্রিমেন্ট বা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করতে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছে পিডিবি। পাওয়ার পারচেস এগ্রিমেন্টের ফাইল এখন অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর-এর প্রক্রিয়াধীন। এসব দপ্তরের অনুমোদন শেষ হলে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত  মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর ভারত সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করবে পিডিবি।
প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি ঢাকায় দিন ভর কারিগরি কমিটির বৈঠকের পর ত্রিপুরার বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি ইউনিট সাড়ে পাঁচ রুপি যা বাংলাদেশি টাকায় ছয় টাকা ৪৩ পয়সা। ওই দিন বিকেলে হোটেল সোনাগাঁয়ে ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর দুুদেশের মন্ত্রী বিদ্যুতের দাম ঘোষণা দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে। দুদেশের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী মানিক দে।
ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে এখানে চুক্তি করা হচ্ছে ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ প্রক্রিয়ায়। অর্থাৎ বাংলাদেশ যদি ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ না আনে তবে বিল পরিশোধ করতে হবে না। যখন যতটুকু দরকার তখন ততটুকু আনতে পারবে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এখন শীতকাল। বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা কম। ফলে নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুতেরই দেশে চাহিদা নাই। ফলে ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে এই মুহূর্তে আগ্রহ কম। আরও এক থেকে দুই মাস পরে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হলেও কোনো অসুবিধা নেই।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ নিজের নদীতে বাঁধ দিয়ে ত্রিপুরার পালাটান বিদ্যুৎকেন্দ্র  নির্মাণের ভারী যন্ত্রাংশ ভারতে পৌঁছাতে সহায়তা করে। ভারত সরকার তখনই ওই প্রকল্প থেকে কৃতজ্ঞতা আর সৌহার্দ্যরে নিদর্শন হিসেবে বাংলাদেশকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর দীর্ঘ সময় পরও বিষয়টি আলোচনায় আসেনি। বাংলাদেশের আগ্রহে ভারত আবার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে আনে।  ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আনতে কুমিল্লা ও ত্রিপুরা অংশে মোট ৫৪ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন করেছে উভয় দেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ২৮ কিলোমিটার এবং ভারত অংশে ২৬ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন এই গ্রিড লাইনটি ত্রিপুরার সুরজমনি নগর থেকে বাংলাদেশের কুমিল্লাকে সংযুক্ত করছে। বাংলাদেশ অংশের ৪০০ কেভি ক্ষমতার আন্তঃদেশীয় ২৮ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লি. (পিজিসিবি)। ‘ত্রিপুরা (ভারত) কুমিল্লা দক্ষিণ (বাংলাদেশ)  গ্রিড ইন্টারকানেকশন প্রজেক্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়। কুমিল্লা (দক্ষিণ) সাবস্টেশন থেকে কুমিল্লা (উত্তর) সাবস্টেশন পর্যন্ত ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিটের আরও ১৯ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হয়ে প্রতিদিন ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। এর মধ্যে ভারতের সরকারি খাত থেকে প্রতিদিন ২৫০ মেগাওয়াট বেসরকারি খাত থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে। এই বিদ্যুৎ এলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৬০০ মেগাওয়াটে। এছাড়া ভারত সরকারের কাছ থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয়ের আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ।



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত